জুমঘর ও পূর্ণিমা
বাইরে ঝক ঝকে একটা মস্ত চাঁদ উঠেছে । জুমঘরে আজ এসে উঠেছে মেনলে ও সাইরু ।
নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর দুজনেই। মাত্র গত পূর্ণিমায় এক উৎসবে দেখা। সেটা ছিল মারমাদের পানি খেলা। সাইরু চুড়ি ও পুথির মালা কিনতে ও পানি খেলা দেখতে সেখানে গেছিল। মেনলে বাঁশি হাতে বন্ধুদের সাথে ঘুরছিল। তাকে দেখে সাইরু যেমন চুড়ি দেখতে দেখতে থমকে গেল তেমনি মেনলে ও বাঁশি হাতে থ । একটু কয়েক পলক দেখে সাইরু একটা লাজুক হাসি দিল। এতেই মেনলে বুঝল মহারানীর তাকে মনে ধরেছে । সে বাঁশিতে হালকা করে মন উদাস করা এক সুর ধরল, দেখল সাইরু কেমন যেন উদাস হল। তার কিছুক্ষণ পর মেনলে বন্ধুদের ডাকে থামল। বন্ধুরা তাকে ডাকছিল আর এক জায়গায় যাওয়ার জন্য। যাবার সময় মেনলে বলে গেল, ‘আমাকে ভাল লাগলে আমার জুমঘরে এস সামনের পূর্ণিমায়।’ সাইরু বলল, ‘আমি ত চিনি না’ । তখন মেনলে বলল, ঝরনার ধারে এসো আমি নিয়ে যাব । মেনলে চলে যাবার পর সাইরু কিছু চুড়ি ও মালা কিনল । কিন্তু মন পরে রইল মেনলের ভাবনায়। পূর্ণিমায় আবার দেখা হচ্ছে ভেবে মনে তার আনন্দের শিহরণ বয়ে যাচ্ছিল। কিছুখন বন্ধুদের সাথে ঘুরে ফিরে সে বাড়ি ফেরার পথ ধরল ।সাইরু বাড়ির দিকে ধীরে ধীরে ফিরছিল বন্ধুদের সাথে। পথে বাগানের বুনো ফুল ছিড়ে নদীতে ভাসাল জল দেবতার উদ্দেশে যাতে তাদের মিলন শুভ হয়। পরদিন জুমে গিয়ে তার কাজে মন বসে না। সে কাজ করতে করতে আনমনা হচ্ছিল আর ভাবছিল মেনলের কথা। তার ভাই মেনপং এর ডাকে তার হুশ ফিরল। মেনপং তার খাবার এনেছে। তার কিন্তু খাবার কথা মনেই নেই। মেনপং তাকে জিজ্ঞেস করল, দিদি তোমার কি হয়েছে গো ? কাল থেকেই দেখছি তুমি যেন নিজের মাঝেই নেই। সাইরু বলল কিছু হয়নিত খাবার রেখে যা আমি সময় করে খেয়ে নিব।
সাইরু আর পোরা পাড়ায় থাকে। সাইরু কারবারির মেয়ে। মেনলে কাফ্রু পাড়ার হেডম্যানের ছেলে। বর হিসাবে উপযুক্তও। আসে পাশের অন্য গ্রামের মেয়েরা তার জন্য পাগল। কিন্তু তার এতদিন ধরে কাউকে মনপুত হয়নি। আজ শুধু কেবল সাইরু কে মনে পরছে। কেন জানি সাইরুর মায়া ভরা মুখটা তাকে বড় টানছিল। সে মনে মনে বলল এমন কাউকে তো আমি খুজে বেড়াচ্ছি। দেখা যাক এই পূর্ণিমাতে বোঝা যাবে তার সাথে মনের কতটুকু মিল হয়। মনে মনে মেনলে সাইরুর কথা যত ভাবছিল তত পুলকিত হচ্ছিল । এই দিকে একই অবস্থা সাইরুর সে দুপুরের ভাত খেয়ে নিল। তারজন্য তার ভাই মেনপং কাল্লং এ তুলা দিয়ে ভর সকালে ভাত তরকারি রেখে গিয়েছিল । সে ভাত মযা বের করে দেখল তখন ও গরম আছে সব কিছু । সে ভাত আর সবজি তরকারি ও একটু মিস্টি লাউ মেশানো কাঁকড়া তরকারি দিয়ে ভাত খেয়ে ছড়া তে পানি আনতে গেল। সে এঁটো থালা বাসন ধুয়ে কলসিতে কুয়ার পানি ভরে আর একটি ছোট হাড়িতে একটু পানি ভরে নিল। সে যাওয়ার সময় দেখে গিয়েছিল কিছু ফুল সে গুলো ছোট পানির পাত্রে নিল যাতে টাটকা থাকে। সে হাতের কাজ সেরে নিল। বাড়ির সবার জন্য রান্নাকরে নিজে কাল্লং এ ভাত মজা ভরল। সন্ধ্যা শুরু হতে বেশি দেরি নেই। সে নতুন ওয়াঙ্কলাই আর পুতির মালা পরল, চুল উঁচু করে খোপা করে চুলে ফুল গুজিয়ে নিল। হাতে মেলা থেকে কেনা চুড়ি পড়ার পর তাকে পরীর মত লাগছিল।
আকাশে গোল থালার মত চাঁদ উঠেছে।আজ পূর্ণিমা সাইরু বাবা মার কাছ থেকে ছড়ার কাছে গেল। ছড়ার পানিতে চাদের আলো দেখতে দেখতে সে আনমনা হয়ে গেল। হঠাত পেছন থেকে কার স্পর্শে সে ঘুরে দাড়াতেই মেনলে কে দেখল। মেনলে বলল, কতক্ষণ ধরে আছ? সায়রু উত্তর দিতে দিতে অনুভব করল মেনলে তার দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছে। একটু লজ্জায় লাল হলেও সে উত্তর দিল এইতো কিছুক্ষণ । মেনলে একটা ফুল নিয়ে এসেছিল তার জন্য সে চুলে গুজিয়ে দিয়ে বলল চল যাওয়া যাক। দুজনে গল্প করতে করতে কখন যে জুম ঘরে এসে পৌছাল সাইরু বুঝতেই পারল না। জুমঘরে বাঁশের ইজরে দুজনে পা ধুয়ে ফেলল। সাইরু আসার আগে মেনলে জুমঘরে পানি ভাত মজা কিছু ফল তরকারি ও চাল নিয়ে এসেছিল। সাইরু এইসব দেখে অবাক। তারপর বলল এই আমি তোমার জন্য খাবার এনেছি। মেনলে বলল আমি ও এনেছি। ভিতরে একটা চুলা আর কুপি জ্বলছিল । সাইরু বলল বাইরে যা চাঁদের আলো এই কুপিটার বোধহয় দরকার নেই।সে কুপি নিভিয়ে দিতেই বেড়ার ফাকে চাঁদের আলো চারদিক আলকিত করল।মেনলে সাইরুর কাছ থেকে ভাত মজা অ তার কাপড় চোপর একপাশে রেখে দিল ।সে সাইরুর হাত ধরল। সাইরু কাপা কাপা হাতে তার হাত ধরতে দিল। অন্ধকারে মেনলে তার গরম ঠোট একটু ছোঁয়াল, আর সাইরুকে আদরে আদরে ভরিয়ে দিল। সাইরুর মনে হচ্ছিল সে নীল আকাশে পাখি হয়ে উড়ছে, কি ঘটছে কিছুই বুঝতে পারছে না। এইভাবে অনেকক্ষণ কেটে গেল। তারপর সারারাত কাটল । সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর সাইরু দেখল বিছানায় কেউ নেই সে একা । শরীর জুমের সুতায় বানানো কাপড় দিয়ে ঢাকা যা মেনলের মমতায় ঢাকা । সে ঘুম থেকে উঠে বাইরে খোলা ইজরে দাঁড়াতে দেখল মেনলে কিছু টাটকা মাছ চিংড়ি ও ফলমূল এনেছে। এসেই বলল চলো নাস্তা করি । দুজনে মিলে ফল মূল ও ভাত দিয়ে নাস্তা সেরে নিল । মাছ আর চিংড়ির তরকারি রেধে রাখা হল রাতে খাওয়ার জন্য । দুজনে মিলে সব কাজ শেষ করে পাশের জুমে হাটতে বের হল । দুজনে জুমে কিছুক্ষণ হাটাহাটির পর একটা গাছের নীচে বসলো সাথে ভুট্টা সেদ্ধ ও কচি মারফা খাওয়া হল । মেনলে বাঁশি বাঁজাতে লাগলো বাঁশির সুরে সাইরু নিজেকে হারিয়ে ফেলল অনেকক্ষণ । পরে বাঁশি থেমে যাওয়ার পর সম্ভিত ফিরে পেল । এভাবে কিছুক্ষন সময় কাটানোর পর দুজনে কিছু পরে জুম ঘরে ফিরে এলো ।
চাঁদটা আবার উঠেছে তবে আজ একটু দেরী করে । আজ চাঁদটাকে বড় সুন্দর লাগছে সাইরুর। মনে হচ্ছে এইটা সম্পূর্ণ অন্য ভুবনের । কেন এমন লাগছে তার কোন কারন খুজে পেলনা সাইরু। ‘ তবে কি এর নাম ভালবাসা ? এইটা ভাবতেই তার কান লাল হয়ে গেল । এইদিকে মেনলের ও একই অবস্থা । তাহলে আজ সব ঠিক করে নেওয়ায় ভাল বলে মনে মনে ঠিক করল মেনলে । কারণ কাল ফিরে যেতে হবে। যদিও আরও দুই একদিন থাকলে ভাল লাগত।
মেনলে সাইরুর হাত ধরল বলল ‘ কি ভাবছ এত’ ? সাইরু বলল কি ভাবছি জান চাঁদ তো সবসময় উঠে আজ এত ভাল লাগার কারন কি বলতো ? আমিও সেইটা ভাবছিলাম বলল মেনলে । মনে হয় তুমি আছ তাই । সাইরু একটু হেসে বলল বোধ হয় তাই । মেনলে বলল শুন আমি ঠিক করেছি বাকী জীবনটা তোমার সাথে কাটাবো তোমার কি মত ? সাইরু লজ্জায় অনেকক্ষণ মাথা নিছু করে থাকল । অনেক পরে বলল ঠিক আছে আমিও রাজী । মেনলে বলল তাহলে আমাদের রাত আজ আরও ভাল কাটবে । .........
[ এই গল্পটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক আমাদের জীবন থেকে আসলে সত্যিকার প্রেম হারিয়ে গেছে তা মনে করানোর বৃথা চেষ্টা এইটা । গল্পটা আমার সব আদিবাসী সংগ্রামী ভাই বোন দের জন্য উৎসর্গ করলাম । ] ছবি দিয়েছেন ' প্রাউড টু বি জুম্মা '
নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর দুজনেই। মাত্র গত পূর্ণিমায় এক উৎসবে দেখা। সেটা ছিল মারমাদের পানি খেলা। সাইরু চুড়ি ও পুথির মালা কিনতে ও পানি খেলা দেখতে সেখানে গেছিল। মেনলে বাঁশি হাতে বন্ধুদের সাথে ঘুরছিল। তাকে দেখে সাইরু যেমন চুড়ি দেখতে দেখতে থমকে গেল তেমনি মেনলে ও বাঁশি হাতে থ । একটু কয়েক পলক দেখে সাইরু একটা লাজুক হাসি দিল। এতেই মেনলে বুঝল মহারানীর তাকে মনে ধরেছে । সে বাঁশিতে হালকা করে মন উদাস করা এক সুর ধরল, দেখল সাইরু কেমন যেন উদাস হল। তার কিছুক্ষণ পর মেনলে বন্ধুদের ডাকে থামল। বন্ধুরা তাকে ডাকছিল আর এক জায়গায় যাওয়ার জন্য। যাবার সময় মেনলে বলে গেল, ‘আমাকে ভাল লাগলে আমার জুমঘরে এস সামনের পূর্ণিমায়।’ সাইরু বলল, ‘আমি ত চিনি না’ । তখন মেনলে বলল, ঝরনার ধারে এসো আমি নিয়ে যাব । মেনলে চলে যাবার পর সাইরু কিছু চুড়ি ও মালা কিনল । কিন্তু মন পরে রইল মেনলের ভাবনায়। পূর্ণিমায় আবার দেখা হচ্ছে ভেবে মনে তার আনন্দের শিহরণ বয়ে যাচ্ছিল। কিছুখন বন্ধুদের সাথে ঘুরে ফিরে সে বাড়ি ফেরার পথ ধরল ।সাইরু বাড়ির দিকে ধীরে ধীরে ফিরছিল বন্ধুদের সাথে। পথে বাগানের বুনো ফুল ছিড়ে নদীতে ভাসাল জল দেবতার উদ্দেশে যাতে তাদের মিলন শুভ হয়। পরদিন জুমে গিয়ে তার কাজে মন বসে না। সে কাজ করতে করতে আনমনা হচ্ছিল আর ভাবছিল মেনলের কথা। তার ভাই মেনপং এর ডাকে তার হুশ ফিরল। মেনপং তার খাবার এনেছে। তার কিন্তু খাবার কথা মনেই নেই। মেনপং তাকে জিজ্ঞেস করল, দিদি তোমার কি হয়েছে গো ? কাল থেকেই দেখছি তুমি যেন নিজের মাঝেই নেই। সাইরু বলল কিছু হয়নিত খাবার রেখে যা আমি সময় করে খেয়ে নিব।
সাইরু আর পোরা পাড়ায় থাকে। সাইরু কারবারির মেয়ে। মেনলে কাফ্রু পাড়ার হেডম্যানের ছেলে। বর হিসাবে উপযুক্তও। আসে পাশের অন্য গ্রামের মেয়েরা তার জন্য পাগল। কিন্তু তার এতদিন ধরে কাউকে মনপুত হয়নি। আজ শুধু কেবল সাইরু কে মনে পরছে। কেন জানি সাইরুর মায়া ভরা মুখটা তাকে বড় টানছিল। সে মনে মনে বলল এমন কাউকে তো আমি খুজে বেড়াচ্ছি। দেখা যাক এই পূর্ণিমাতে বোঝা যাবে তার সাথে মনের কতটুকু মিল হয়। মনে মনে মেনলে সাইরুর কথা যত ভাবছিল তত পুলকিত হচ্ছিল । এই দিকে একই অবস্থা সাইরুর সে দুপুরের ভাত খেয়ে নিল। তারজন্য তার ভাই মেনপং কাল্লং এ তুলা দিয়ে ভর সকালে ভাত তরকারি রেখে গিয়েছিল । সে ভাত মযা বের করে দেখল তখন ও গরম আছে সব কিছু । সে ভাত আর সবজি তরকারি ও একটু মিস্টি লাউ মেশানো কাঁকড়া তরকারি দিয়ে ভাত খেয়ে ছড়া তে পানি আনতে গেল। সে এঁটো থালা বাসন ধুয়ে কলসিতে কুয়ার পানি ভরে আর একটি ছোট হাড়িতে একটু পানি ভরে নিল। সে যাওয়ার সময় দেখে গিয়েছিল কিছু ফুল সে গুলো ছোট পানির পাত্রে নিল যাতে টাটকা থাকে। সে হাতের কাজ সেরে নিল। বাড়ির সবার জন্য রান্নাকরে নিজে কাল্লং এ ভাত মজা ভরল। সন্ধ্যা শুরু হতে বেশি দেরি নেই। সে নতুন ওয়াঙ্কলাই আর পুতির মালা পরল, চুল উঁচু করে খোপা করে চুলে ফুল গুজিয়ে নিল। হাতে মেলা থেকে কেনা চুড়ি পড়ার পর তাকে পরীর মত লাগছিল।
আকাশে গোল থালার মত চাঁদ উঠেছে।আজ পূর্ণিমা সাইরু বাবা মার কাছ থেকে ছড়ার কাছে গেল। ছড়ার পানিতে চাদের আলো দেখতে দেখতে সে আনমনা হয়ে গেল। হঠাত পেছন থেকে কার স্পর্শে সে ঘুরে দাড়াতেই মেনলে কে দেখল। মেনলে বলল, কতক্ষণ ধরে আছ? সায়রু উত্তর দিতে দিতে অনুভব করল মেনলে তার দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছে। একটু লজ্জায় লাল হলেও সে উত্তর দিল এইতো কিছুক্ষণ । মেনলে একটা ফুল নিয়ে এসেছিল তার জন্য সে চুলে গুজিয়ে দিয়ে বলল চল যাওয়া যাক। দুজনে গল্প করতে করতে কখন যে জুম ঘরে এসে পৌছাল সাইরু বুঝতেই পারল না। জুমঘরে বাঁশের ইজরে দুজনে পা ধুয়ে ফেলল। সাইরু আসার আগে মেনলে জুমঘরে পানি ভাত মজা কিছু ফল তরকারি ও চাল নিয়ে এসেছিল। সাইরু এইসব দেখে অবাক। তারপর বলল এই আমি তোমার জন্য খাবার এনেছি। মেনলে বলল আমি ও এনেছি। ভিতরে একটা চুলা আর কুপি জ্বলছিল । সাইরু বলল বাইরে যা চাঁদের আলো এই কুপিটার বোধহয় দরকার নেই।সে কুপি নিভিয়ে দিতেই বেড়ার ফাকে চাঁদের আলো চারদিক আলকিত করল।মেনলে সাইরুর কাছ থেকে ভাত মজা অ তার কাপড় চোপর একপাশে রেখে দিল ।সে সাইরুর হাত ধরল। সাইরু কাপা কাপা হাতে তার হাত ধরতে দিল। অন্ধকারে মেনলে তার গরম ঠোট একটু ছোঁয়াল, আর সাইরুকে আদরে আদরে ভরিয়ে দিল। সাইরুর মনে হচ্ছিল সে নীল আকাশে পাখি হয়ে উড়ছে, কি ঘটছে কিছুই বুঝতে পারছে না। এইভাবে অনেকক্ষণ কেটে গেল। তারপর সারারাত কাটল । সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর সাইরু দেখল বিছানায় কেউ নেই সে একা । শরীর জুমের সুতায় বানানো কাপড় দিয়ে ঢাকা যা মেনলের মমতায় ঢাকা । সে ঘুম থেকে উঠে বাইরে খোলা ইজরে দাঁড়াতে দেখল মেনলে কিছু টাটকা মাছ চিংড়ি ও ফলমূল এনেছে। এসেই বলল চলো নাস্তা করি । দুজনে মিলে ফল মূল ও ভাত দিয়ে নাস্তা সেরে নিল । মাছ আর চিংড়ির তরকারি রেধে রাখা হল রাতে খাওয়ার জন্য । দুজনে মিলে সব কাজ শেষ করে পাশের জুমে হাটতে বের হল । দুজনে জুমে কিছুক্ষণ হাটাহাটির পর একটা গাছের নীচে বসলো সাথে ভুট্টা সেদ্ধ ও কচি মারফা খাওয়া হল । মেনলে বাঁশি বাঁজাতে লাগলো বাঁশির সুরে সাইরু নিজেকে হারিয়ে ফেলল অনেকক্ষণ । পরে বাঁশি থেমে যাওয়ার পর সম্ভিত ফিরে পেল । এভাবে কিছুক্ষন সময় কাটানোর পর দুজনে কিছু পরে জুম ঘরে ফিরে এলো ।
চাঁদটা আবার উঠেছে তবে আজ একটু দেরী করে । আজ চাঁদটাকে বড় সুন্দর লাগছে সাইরুর। মনে হচ্ছে এইটা সম্পূর্ণ অন্য ভুবনের । কেন এমন লাগছে তার কোন কারন খুজে পেলনা সাইরু। ‘ তবে কি এর নাম ভালবাসা ? এইটা ভাবতেই তার কান লাল হয়ে গেল । এইদিকে মেনলের ও একই অবস্থা । তাহলে আজ সব ঠিক করে নেওয়ায় ভাল বলে মনে মনে ঠিক করল মেনলে । কারণ কাল ফিরে যেতে হবে। যদিও আরও দুই একদিন থাকলে ভাল লাগত।
মেনলে সাইরুর হাত ধরল বলল ‘ কি ভাবছ এত’ ? সাইরু বলল কি ভাবছি জান চাঁদ তো সবসময় উঠে আজ এত ভাল লাগার কারন কি বলতো ? আমিও সেইটা ভাবছিলাম বলল মেনলে । মনে হয় তুমি আছ তাই । সাইরু একটু হেসে বলল বোধ হয় তাই । মেনলে বলল শুন আমি ঠিক করেছি বাকী জীবনটা তোমার সাথে কাটাবো তোমার কি মত ? সাইরু লজ্জায় অনেকক্ষণ মাথা নিছু করে থাকল । অনেক পরে বলল ঠিক আছে আমিও রাজী । মেনলে বলল তাহলে আমাদের রাত আজ আরও ভাল কাটবে । .........
[ এই গল্পটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক আমাদের জীবন থেকে আসলে সত্যিকার প্রেম হারিয়ে গেছে তা মনে করানোর বৃথা চেষ্টা এইটা । গল্পটা আমার সব আদিবাসী সংগ্রামী ভাই বোন দের জন্য উৎসর্গ করলাম । ] ছবি দিয়েছেন ' প্রাউড টু বি জুম্মা '
লেখার ধরন:
- তন্দ্রা চাকমা এর ব্লগ
- 331 বার পঠিত

মন্তব্য