কল্পনা কথা
গত ১২ ই জুন কল্পনা চাকমার অন্তর্ধান দিবস পালিত হল । তিল তিল করে কিন্তু ১৭ বছর পার হল । আমরা বেশ কয়েক বার রাজপথে ও নেমে ছিলাম । ওই টুকুই ।
এর পর আদালত আবার পুনতদন্তের নির্দেশ দেয় । কিন্তু কালের কণ্ঠে ১১ই জুন প্রাকাশিত প্রতিবেদন বলে অন্য কথা তা লিঙ্ক সহকারে বিস্তারিত দিলাম ।
কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলা১৭ বছর পর পুলিশ বলছে 'প্রমাণ' নেই
পাহাড়ের নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহরণের ১৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল। এত দিন পর পুলিশ বলছে, কল্পনা হয় আত্মগোপন করে আছেন, নয়তো বিদেশে আছেন। ১৭ বছরের পুলিশি তদন্তে তাঁর 'মৃতদেহ' পাওয়া যায়নি, তাই তাঁকে 'মৃত' বলা যাচ্ছে না। অপহরণের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য-প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
আলোচিত এই অপহরণ মামলার বিষয়ে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট নারী নেত্রীরা পুলিশের এ তথ্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতেই এত বছর পর পুলিশ 'আজগুবি' কথাবার্তা বলছে। প্রকৃত অপরাধীকে রেহাই দিয়ে মামলা ধামাচাপা দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
আলোচিত এই অপহরণ মামলার বিষয়ে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট নারী নেত্রীরা পুলিশের এ তথ্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতেই এত বছর পর পুলিশ 'আজগুবি' কথাবার্তা বলছে। প্রকৃত অপরাধীকে রেহাই দিয়ে মামলা ধামাচাপা দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রাঙামাটির এসপি আমেনা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এর আগে এ মামলায় অনেক তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দিয়েছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ছয় মাস ধরে আমি ওই প্রতিবেদনগুলো পড়েছি। বাদীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেকের সাক্ষ্য নিয়েছি। অনেক তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখেছি। কিন্তু কোথাও কল্পনা চাকমার সন্ধানপাওয়া যায়নি। কেউই তাঁর সন্ধান দিতে পারেনি।'এসপি বলেন, 'যেহেতু কল্পনা চাকমার মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। তাই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা যাবে না। প্রাথমিক তদন্তে আমরা জেনেছি, হয় তিনি নিজেই কোনো কারণে আত্মগোপন করে আছেন; নয়তো তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন।'মামলার তদন্ত কবে শেষ হবে জানতে চাইলে আমেনা বেগম বলেন, 'আরো কিছু সময় লাগবে। আমাদের তদন্ত চলছে। স্পর্শকাতর এ মামলার আগের তদন্ত প্রতিবেদনগুলো ও আনুষঙ্গিক বিভিন্নবিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দেখতে হচ্ছে।'এদিকে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তভাষ্য প্রত্যাখ্যান করে কল্পনা চাকমার সাবেক সহকর্মী ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিরা দেওয়ান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'অপহরণের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি নিছক পুলিশি প্রচারণা। মামলার বাদী ও কল্পনা চাকমার বড় ভাই কালিন্দী কুমার চাকমা অপহরণ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি আদালতে বলেছেন, লেফটেন্যান্ট ফেরদৌসসহ নিরাপত্তা বাহিনীর তিনজন সদস্য তাঁর বোনকে অপহরণ করেছেন।'ইলিরা বলেন, এর আগেও ১৯৯৬-৯৭ সালে গুজব রটানো হয়েছিল যে, কল্পনা চাকমাকে নাকি ভারতের ত্রিপুরার গণ্ডাছড়া গ্রামে দেখা গেছে। এরপর বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ঘটনাটি আদৌসত্য নয় বলে প্রমাণিত হয়।প্রসঙ্গত, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমাকে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন গভীর রাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির নিউ লাইল্ল্যাঘোনা গ্রামের বাড়ি থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে। কল্পনাকে উদ্ধারের দাবিতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ লাগাতারআন্দোলন করে। এ সময় পুলিশের গুলিতে চার ছাত্র নিহত হয়।কল্পনার মা বাঁধুনী চাকমা ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর মেয়েকে অপহরণের জন্য একটি'বিশেষ মহলকে' দায়ী করেন। পরে সরকার বিচারপতি আবদুল জলিলের নেতৃত্ব তিন সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করে। প্রায় এক মাস পর কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে ওই প্রতিবেদন আজও প্রকাশিতহয়নি।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১০ সালের ২১ মে বাঘাইছড়ি থানার এসআই ফারুক আহমেদ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এতে তিনি কল্পনা চাকমার সন্ধান পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে মামলাটি বাতিল করার আবেদন জানান। কিন্তু রাঙামাটির মুখ্য বিচারিক হাকিম মামলা পুনরায় তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশকে নির্দেশ দেন। গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ আদালতে একই রকম প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলার বাদী কালিন্দী চাকমা তদন্ত প্রতিবেদনে আপত্তি জানালে আদালত শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেন। গত ১৫ জানুয়ারি রাঙামাটির মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সিরাজুল্লাহ কুতুবী পুলিশ সুপারকে মামলা পুনঃ তদন্তের নির্দেশ দেন।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১০ সালের ২১ মে বাঘাইছড়ি থানার এসআই ফারুক আহমেদ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এতে তিনি কল্পনা চাকমার সন্ধান পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে মামলাটি বাতিল করার আবেদন জানান। কিন্তু রাঙামাটির মুখ্য বিচারিক হাকিম মামলা পুনরায় তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশকে নির্দেশ দেন। গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ আদালতে একই রকম প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলার বাদী কালিন্দী চাকমা তদন্ত প্রতিবেদনে আপত্তি জানালে আদালত শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেন। গত ১৫ জানুয়ারি রাঙামাটির মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সিরাজুল্লাহ কুতুবী পুলিশ সুপারকে মামলা পুনঃ তদন্তের নির্দেশ দেন।
কল্পনা চাকমার অপহরনের বিচার কেন হবে না। দুইজন অপরাধীর দায় কেন সরকারের দুই বিভাগ নেবে? কেন সেই অপরাধীকে জনসমক্ষে হাজির করে জেরা করা হবে না????? এই সত্য যদি প্রকাশিত হয় তাহলে বাংলাদেশের নারী অধিকার এক ধাপ আগুবে। ১২ই জুন ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিশসের দরবারে আমরা জাতি হিসাবে মাথা উচু করে দাঁড়াব তাই না? আমরা একবারও কি এমন হতে পারিনা??????

Comments